পাকুন্দিয়া ও কুলিয়ারচরে দৃষ্টিনন্দন দুটি মডেল মসজিদ উদ্বোধন

সাতকাহন রিপোর্ট
পাকুন্দিয়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

মুজিববর্ষ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও কুলিয়ারচর উপজেলার দুটিসহ সারা দেশে ৫০টি মডেল মসজিদ-সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে গণভবন থেকে একযোগে আধুনিক ও সুসজ্জিত এসব মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় পাকুন্দিয়ার প্রান্ত থকে যুক্ত ছিলেন, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহীম হোসেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনু, পাকুন্দিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) একেএম লুৎফর রহমান, পাকুন্দিয়া থানার ওসি মো. সারোয়ার জাহান প্রমুখ।

এসময় কুলিয়ারচর প্রান্ত থকে যুক্ত ছিলেন, কুলিয়ারচর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ ফেরদৌসীসহ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

৪০ শতাংশ জায়গার উপর  ৩ তলা পাকুন্দিয়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়েল পশ্চিম পাশে নির্মাণা করা হয়েছ। ৪০ শতাংশ জায়গার উপর  ৩ তলা  কুলিয়ারচর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের পুরাতন মসজিদের পাশে নির্মাণা করা হয়েছে।

এগুলোর প্রতি ফ্লোরের আয়তন ১ হাজার ৬৮০ দশমিক ১৪ বর্গমিটার। একেকটি মসজিদ নির্মাণ করতে ব্যয় হচ্ছে ১৩ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ দুটি মডেল মসজিদগুলোর প্রতিটিতে একসঙ্গে ৯ শ মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।  

সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইসলামের প্রচার ও প্রসার এবং মসজিদকে জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করছে সরকার। একসঙ্গে এতগুলো মসজিদ নির্মাণের ঘটনা বিশ্বে বিরল বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সুবিশাল এসব মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে নারী ও পুরুষদের পৃথক ওজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা, লাইব্রেরী, গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, পবিত্র কুরআন হেফজ বিভাগ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজ্জযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ, অটিজম কেন্দ্র, গণশিক্ষা কেন্দ্র, ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র থাকবে। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা এবং গাড়ি পার্কিং সুবিধা রাখা হয়েছে।

মডেল মসজিদগুলোতে দ্বীনি দাওয়া কার্যক্রম ও ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস, যৌতুক, নারীর প্রতি সহিংসতাসহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি রোধে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।