• প্রচ্ছদ
  • »
  • সারা দেশ
  • »
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এখন কৃষি ও গৃহস্থালি কাজে পছন্দের আঙিনা

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এখন কৃষি ও গৃহস্থালি কাজে পছন্দের আঙিনা

সাতকাহন রিপোর্ট
করিমগঞ্জ উপজেলার কুর্শ্বাখালী আমেনা স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ইটনা উপজেলার মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব জনিত কারণে লাগাতার বন্ধের কারণে কিশোরগঞ্জের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ গুলো যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। কোন রকম দেখভাল ও তদারকির অভাবে অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এমনকি ভবন ব্যবহার হচ্ছে আশপাশের লোকজনের নির্মাণ সামগ্রী, গরু-ছাগল এবং গৃহস্থালি সামগ্রী রাখার নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে। বিশেষ করে ১৩ উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর উপজেলা গুলোতেই এমন পরিস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উপরন্তু; রাত নামলেই এসব সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অপরাধী, মাদকাসক্ত ও জুয়াড়ি চক্রের নিরাপদ আশ্রয়ে কেন্দ্রে পরিণত হয় বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর।

অবশ্য, এসব উপজেলার এমন সুবিধা ভোগী লোকজনের দাবি, বোরো ধানকাটা মৌসুমে স্কুল আন্ধ থাকার সুবাদে বিদ্যালয়ের মাঠ ও বারান্দা ব্যবহার করে থাকেন তারা।

তবে, সরেজমিন পরিদর্শন কালে দেখা গেছে বেশ কিছু স্কুলের সামনে প্রতিবেশী লোকজনের স্থাপনা ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণ সামগ্রী এবং ধান -খড় সহ নানানরকম গৃহস্থালি সামগ্রীর স্তূপ দেখা গেছে।

এরমধ্যে, জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার কাদির জঙ্গল ইউনিয়নের কুর্শ্শ্বাখালী আমেনা বেগম স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা এমনকি শ্রেণিকক্ষেও ধান ও ধানের খড়ের স্তুূপ রাখার প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া বারান্দায়  গরুও বেঁধে রাখা  হয়। এক কথায় এ বিদ্যালয়টি ব্যক্তিগত কৃষি খামারে পরিণত হয়েছে।

করোনাকালীন সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিদ্যালয়টিকে তার গোলাঘরে পরিণত করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। আর এমন অবস্থা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি  আবদুল আওয়াল  নিজেই তৈরী করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামের অধিবাসী সলিম উদ্দিন।

অবশ্য, প্রধান শিক্ষক আয়শা আক্তারের দাবি, দ্বিতল ভবনের নির্মাণকাজের জন্য বিদ্যালয়ের চাবি সভাপতির কাছে তিনি  দিয়ে রেখেছেন। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় প্রতিদিন খোঁজ রাখা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যালয়ের জমিদাতা প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক জানান, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ দিয়েও এসবের কোনো প্রতিকার মিলছে না। বিদ্যালয়টিকে সুশৃঙ্খল পরিবেশে আনার জন্য সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল আউয়াল জানান, কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। বিদ্যালয়টি সঠিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।

অপরদিকে, জেলার হাওর উপজেলা ইটনার  মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন কালেও দেখা গেছে বিদ্যালয়টির প্রাঙ্গণ জুড়ে প্রতিবেশীদের  বালু, ইট-সুরকি ও নির্মাণ সামগ্রীর স্তূপ। 

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক জানান, এসব ব্যাপার লক্ষ্য রাখতে জেলার ১ হাজার ৩২৯টি বিদ্যালয় প্রধানকে নির্দেশ দেয়া আছে। এ ছাড়া এসবের মধ্যে    ১০০০ স্কুলের দপ্তরী রয়েছে। তাদেরও দায়িত্ব এসব লক্ষ্য রাখার। তবে, এ ধরনের অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে বলা হয়েছে বিদ্যালয় প্রধানগণকে।