পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে সবার চক্ষু চড়কগাছ (ভিডিও)

বিশেষ প্রতিবেদন
রাতের পাগলা মসজিদের নান্দনিক ছবি। শনিবার দানবাক্স খুলে প্রাপ্ত নগদ দেশি-বিদেশি মুদ্রা এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কার

কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে মিললো দুই কোটি ৩৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৯ টাকা এবং বিদেশি মুদ্রাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রৌপ্যাাাালঙ্কার।

করোনা কালেও এ ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে মিললো ১২ বস্তা দেশি-বিদেশি মুদ্রা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কার মেলায়।

কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদী পাড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক এ মসজিদটিতে নতুন তিনটিসহ মোট আটটি  লোহার বানানো দানবাক্স রয়েছে। প্রতি তিন মাস পরপর এসব বাক্স গুলো খোলার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু; এবার করোনা কালের জন্য প্রায় সাড়ে চার  মাস পর আজ শনিবার এসব দানবাক্স খুলে সবার চক্ষু চড়কগাছ!

শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে এসব দানবাক্স খুলা হয়। আর বরাবরের মতোই এসব দানবাক্স খুললে এ বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ  স্বর্ণ ও রৌপ্যলঙ্কার মেলে।

সকাল থেকে বিকাল পৌণে পাঁচটা পর্যন্ত সময় ধরে এসব টাকা গোনার কাজে অংশ নেন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ মসজিদ মাদ্রাসার দুই শতাধিক ইমাম, শিক্ষক এবং মসজিদ মাদ্রাসার শিক্ষক -শিক্ষার্থী।

এর আগে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি এসব দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫  টাকা। এ ছাড়া বিদেশি মুদ্রাসহ স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কার। এ মসজিদটিতে বর্তমানে আটটি দানবাক্স রয়েছে।

মসজিদটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, এসব অর্থ এ মসজিদসহ জেলার সব মসজিদ,মাদ্রাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।

মসজিদের খতিব,এলাকাবাসী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকজন সূত্রে জানা যায়, এখানে মানত করলে মনের বাসনা পূর্ণ হয়- এমন ধারণা থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এখানে দান করে থাকেন।

সূত্রমতে, একসময় এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বাস ছিল কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝপথে প্রবাহিত নরসুন্দা নদের মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা উঁচু টিলাকৃতির স্থানটিতে।

মুসলিম ও হিন্দু-নির্বিশেষে সব লোকজনের যাতায়াত ছিল ওই সাধকের আস্তানায়।ওই পাগল সাধকের দেহাবসানের পর তার উপাসনালয়টিকে কামেল পাগল পীরের মসজিদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করে এলাকাবাসী।

কিন্তু; ওই সাধকের দেহাবসানের পর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে এলাকা এমনকি দেশের দূর-দূরান্তের লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। মানত কিংবা দানখয়রাত করলে মনোবাসনা পূরণ হয় এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন বয়সের হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ মানত নিয়ে আসেন এই মসজিদে।

তারা নগদ টাকা-পয়সা,স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি দান করেন।বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার এ মসজিদে মানত নিয়ে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের ঢল নামে।

আগতদের মধ্যে মুসলিমদের অধিকাংশই জুমার নামাজ আদায় করেন এ মসজিদে। আর এ ইতিহাস প্রায় আড়াইশ বছরেরও অধিক সময়ের বলে জানা যায়।

জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সভাপতি করে প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজনকে নিয়ে গঠিত কমিটি এ মসজিদটির ব্যবস্থাপনা ও দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন।

আর দানের বিপুল অর্থ মসজিদ ও মসজিদ ক্যাম্পাসে অবস্থিত মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।

আর টাকা গোনার কাজে বরাবরই অতিরিক্ত জেলা মাজিস্ট্রেট (এডিএম), নেজারত ডেপুটি কালেক্টর, নির্বাহী মাজিস্ট্রেট, রূপালী ব্যংকের এজিএম ও অন্যান্য কর্মকর্তা, ব্যবস্হাপনা কমিটির  সদস্য এবং মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে থাকেন। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত