
প্রাণ প্রিয় শিশু কন্যাকে লাল টুকটুকে জামাকাপড় আর স্বর্ণালঙ্কার পড়ানোর স্বপ্ন পূরণের আগেই সৌদি আরবের সড়কপথের ধুলোয় লুটালো জীবন মিয়ার (৩১)’র শেষ স্বপ্ন ও জীবন।
সোমবার (১১ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর একটার দিকে সৌদি আরবের জিদানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় জীবন মিয়ার জীবন প্রদীপ নিভে গেলো। দু'টি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের কবলে পড়ে অকাল মৃত্যু হয় তার। এ সময় গুরুতর আহত হন তার এক সহকর্মী। ঘটনার পরপরই ফোন করে তার অন্য সহকর্মীরা পরিবারকে এ খবর দেন।
নিহত জীবন মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়ার উপজেলার এগারসিন্ধুর ইউনিয়নের বাহাদিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুস সাহিদের ছেলে।
সৌদি আরবের জিদানে সড়ক দুর্ঘটনায় জীবন মিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে জীবন মিয়ার পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে। শোকের ছায়া নেমে এসছে এলাকা জুড়ে।
জানা গেছে, বিয়ের পর সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে ২০১৫ সালের দিকে জমি বিক্রি করে এবং সুদের ওপর টাকা নিয়ে পাড়ি জমান সৌদি আরবে।
সেখানে চাকরি নেন সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীর। বছরখানেক আগে তিনি দেশের বাড়িতে এসে ছুটি কাটিয়ে গত জানুয়ারি মাসে ফিরে যান সৌদি আরবে। সেখান থেকেই তিনি খবর পান তার স্ত্রীর কোল আলো করে জন্ম নেয়া কন্যা সন্তানের।
নুসাইবা নামের ওই কন্যা সন্তানের বয়স এখন পাঁচ মাস ১৮ দিন। ক’দিন আগে স্ত্রী লাভলী আক্তারকে ফোন করে প্রাণ প্রিয় কন্যা নুসাইবার খোঁজ খবর নেয়ার সময় জীবন বলছিলেন, পরের বার বাড়ি আসার সময় তার জন্য লাল টুকটুক জামা আর স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে এসে তাকে মনের মতো করে সাজাবেন।









