শৈশবের ঈদ আনন্দ

যোবায়ের আহসান জাবের

শৈশব-কৈশোরের সময়ের ঈদ ছিল শুধুই উৎসব। অনাবিল আনন্দে দিন উদযাপন। নতুন জামা কখন কেনা হবে, মাংস-পোলাও কখন রান্না হবে- এসবই ছিল ছোটবেলার ঈদ। শৈশব-কৈশোরের সময়ের ঈদ ছিল শুধুই উৎসব। অনাবিল আনন্দে দিন উদযাপন। নতুন জামা কখন কেনা হবে, মাংস-পোলাও কখন রান্না হবে- এসবই ছিল ছোটবেলার ঈদ।

ছোটবেলায়ব ঈদের যে আমেজ পেতাম তা এখন আর পাই না। ঈদ মানেই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে দলে দলে পুকুরে বা নদীতে গোসল করতে যাওয়া। হাওরের মানুষের ঈদটা অন্যরকম। ঘুম থেকে উঠে সোজা গাঙে চলে যাওয়া। সুগন্ধী সাবানের ঘ্রাণে ঈদের আমেজটা অন্যরকম। গোসল করে নতুন জামা পরার পালা।

কে কোন জামা কিনেছে আগে কাউকে দেখার সুযোগ দেওয়া হতো না। এতে সবার একটা কৌতুহল থাকত। ঈদের জামা ঈদের দিনের আগে কাউকে দেখানো হতো না। কারণ-মুরব্বিরা বলতেন- ঈদের আগে ঈদের জামা দেখালে ঈদ হয় না!

যাইহোক, ঈদের নতুন জামা পরে আতর খুশবো মেখে সুশোভিত হয়ে ঈদের জামাতে যাওয়ার দৃশ্যটা বছরে দুবারই আসে। বিশেষ কওে কুরবানির ঈদে যোগ হয় গরু বা খাসিকে নিয়ে নানা ব্যস্ততা।

ঈদ জামায়াতে যাওয়ার জন্য সারি সারি হয়ে কিস্তি নৌকায় বসার দৃশ্যটা অন্যরকম। সবার পরনে পাজামা-পাঞ্জাবি আর টুপি। ধইঞ্চা ক্ষেত পার হয়ে ছলাৎ ছলাৎ শব্দে ঈদগাহে যাওয়া।

ফিরনি, সেমাই ও নানা রকমের পিঠা না হলে তো ঈদ জমেই না। ঈদ জামায়াতের পর ঘরে ঘরে গিয়ে সবাইকে পা ছয়েু সালাম করে করে সেলামি নেওয়া। কিন্তু এখন দিন দিন ওইসব রেওয়াজ হারিয়ে যেতে বসেছে।

এখন ঈদের দিনেও ফেসবুক ও ইউটিউবে বুদ হয়ে থাকছে নতুন প্রজন্ম। আগে ঈদের দিন নতুন পুরনো সব বন্ধুদের একসঙ্গে প্রাণবন্ত আড্ডা হতো। বিবাহিত, অবিবাহিতদের মধ্যে ফুটবল ম্যাচের আয়োজন থাকত। প্রাণের সম্মিলন ঘটত ঈদকে ঘিরে।

কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করে নিচ্ছে ভার্চুয়াল জগত। এখন ঈদের দিন সবাই একসঙ্গে বসা হয় কিন্তু কথা হয় না, প্রাণবন্ত আ্ড্ডা হয় না। সবাই ব্যস্ত ভার্চুয়াল বন্ধুদের নিয়ে। ফেসবুক স্ট্রাটাস বা ছবি আপলোড করে  লাইক, কমেন্ট নিয়ে সবার ব্যস্ততা। বাস্তব জগত বাদ দিয়ে রঙিন দুনিয়ার দিকে ছুটা এই প্রজন্ম আসলে ঈদের স্বাদ পায় না। প্রযুক্তি এই সময়ে ঈদ আনন্দকে কেড়ে নিয়েছে!

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত