ভালো থেকো সুমন, ভালো থেকো বাংলাদেশ

এসকে রাসেল
ভালো থেকো সুমন, ভালো থেকো বাংলাদেশ। ছবি: এসকে রাসেল

স্বাধীন বাংলাদেশের গৌরবজ্বল উপাখ্যানের অন্যতম ধারক ও বাহক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

এ লাল-সবুজ পতাকার ভাজে ভাজে  লুকিয়ে আছে বাঙালিদের  অপরিমেয় আত্মত্যাগ ও বীরত্ব গাঁথা ।

এ পতাকা-ই  সাক্ষী হয়ে আছে সোনার আখরে লিখা রক্তস্নাত সে  অধ্যায়ের।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, গৌরব, জাতীয়তা আর অপূর্ব আত্মত্যাগের মেলবন্ধন  লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। স্বপ্নের এ পতাকার প্রতি অপার ভালবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ থেকে মহান বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ভাষা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস এমনকি নান ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ও সাফল্যে  উত্তোলনের পাশাপাশি নিবিড় আলিঙ্গনাবদ্ধ হয় আমাদের দেশের বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। কপালে মুড়িয়ে, ছোট স্টিকে লাগিয়ে হাতে করে  কিংবা  গাড়ির সামনে লাগিয়ে উপভোগ ও সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। 

আর তাই বিভিন্ন জাতীয় দিবস অথবা উৎসবে রকমারি জাতীয় পতাকার যোগান দিতে পতাকা তৈরির হিড়িক পড়ে। দোকানে দোকানে  এবং পথ-প্রান্তরে  হকারদের কাঁধের লম্বা স্টিকে পতাকার পসরা নজর কাড়ে। মহান বিজয়, স্বাধীনতা দিবস,ভাষা দিবস, বাঙলা নববর্ষ  ও বড় উৎসব পার্বণের সময় জাতীয় পতাকাও জীবিকার্জনের বাহন হয়ে ওঠে। 

শ্রমজীবী কিশোর, তরুণ ও যুবকদের একটি অংশ তখন জাতীয় পতাকা বিক্রির ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। তারা গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দর, হাট-বাজার এবং রেলগাড়ীতে পতাকা ফেরি করতে বেরিয়ে পড়ে। 

বিজয় দিবসের আনন্দ  উৎসবকে সামনে রেখে পতাকা ফেরি করতে মাদারীপুর সদর থেকে কিশোরগঞ্জ শহরে  আাসা এমন এক তরুণের  নাম সুমন মিয়া। 

আজ শনিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের ইউনিভার্সেল প্রেক্ষাগৃহের সামনের মোড়ে একান্তে কথা হয় তার সঙ্গে। সুমন জানায়, এমনিতে এলাকায় পিক-আপে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে সে। 

একান্ত শৈশব থেকেই এ লাল-সবুজের পতাকার প্রতি দারুণ আকর্ষণ ছিল তার।শৈশবকালে বন্ধু-বান্ধবরা এ পতাকা কপালে মুড়িয়ে ছোটাছুটি ও আনন্দ উল্লাস করলেও টাকার অভাবে পতাকা কিনে শখ পূরণ ও আনন্দ উল্লাস করতে পারতো না সে। 

বিশেষ দিবসে পতাকা বিক্রির হিড়িকের সুযোগ নিয়ে পতাকা ফেরির কাজে জড়িয়ে পড়ে সে। এর আগেও কিশোরগঞ্জে পতাকা ফেরি করতে আসে সে। এ সময় সুমন আরও জানায়, পতাকা বিক্রি করে লাভের চেয়ে সে আনন্দই পায়  বেশি। 

অনেক সময় ছোট শিশুরা মূল্যের চেয়ে কম টাকা দিলেও এবং কখনও টাকার জন্য পতাকা কিনতে না পারা শিশুদের হাতে পতাকা তোলে দিয়ে নিজেই আনন্দে ভাসার কথাও জানায় সুমন। 

এ প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা পতাকা প্রেমিক সুমনের জন্য শ্রদ্ধা ও ভালবাসা অফুরান। ভালো থেকো সুমন, ভালো থেকো বাংলাদেশ।