
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় দেশটির নাগরিকদের চিকিৎসাসহ মানবিক প্রয়োজনগুলো আমদানি করতে পারছে না তেহরান।
এতে ইরানিদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পর্কিত অধিকারগুলো মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মঙ্গলবার এমন তথ্য জানিয়েছে।
বছর চারেক আগে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের সই করা পরমাণু চুক্তি থেকে গত বছর সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এরপর দেশটির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের প্রচার শুরু করেন এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট।
সাধারণত খাদ্য, ঔষধ ও অন্যান্য মানবিক পণ্য আনুষ্ঠানিকভাবে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বাইরে থাকে।
কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তির প্রতিশোধের ভয়ে অধিকাংশ কোম্পানি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করতে অপারগতা প্রকাশ করছে।
ইরানের নাগরিকদের পাশে থাকার দাবি করে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিপরীতে অতি সম্প্রসারিত ও দুর্বহ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির স্বাস্থ্য অধিকার হরণ করে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এতে জীবন-রক্ষাকারী ঔষধ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন ইরানের নাগরিকরা বলে জানিয়েছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক সারাহ লিয়াহ উটসন।
তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ব্যাপক বিস্তৃত জালে আটকা পড়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানি ইরানের সঙ্গে মানবিক প্রয়োজনীয় পণ্য বাণিজ্য থেকে সরে গিয়েছে। এতে ইরানে বিরল ও জটিল রোগে আক্রান্ত লোকজন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং ঔষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এর আগে পরমাণু চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর ইরানের তেল রফতানি ও অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে যেসব নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়েছিল, সেগুলো পুনর্বহাল করার পাশাপাশি নতুন করে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, সন্ত্রাসবাদে ইরানের সমর্থন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক ধ্বংসাত্মক তৎপরতা বন্ধে তারা এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
৪৭ পাতার প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বিদেশি ঔষধ সংকটে ভুগছেন ইরানি রোগীরা। দেশটিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে দ্রব্যমূল্য আকাশছোঁয়া। মুদ্রার পতন ছাড়াও অর্থনীতিতে ধস নেমেছে।
চিকিৎসা সম্পর্কিত পণ্য রফতানিকারকরা সরকারি ভর্তুকি পেলেও বিদেশি ঔষধ ও যন্ত্রপাতি সবসময় রাষ্ট্রীয় ফার্মাসিতে পাওয়া যাচ্ছে না।









