
ফিল্ড মার্শাল মানেকশ। পুরো নাম স্যাম হরমুজজি প্রেমজি জামসেদজি মানেকশ।জরথুস্ত্রীয় ধর্মের অনুসারী ছিলেন। ইরানের বংশোদ্ভুত ভারতীয় সেনাকর্মকর্তা। ভারতের সেনাবাহিনীতে পরিচিত ছিলেন "স্যাম বাহাদুর" বলে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। ভারত- বাংলাদেশ যৌথ বাহিনীর প্রধান ছিলেন জেনারেল মানেকশ।
১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর জেনারেল মানেকশ পশ্চিমবংগের কলকাতায় ৮,থিয়েটার রোডে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্টপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের দপ্তরে দেখা করেন।
১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর জেনারেল মানেকশ ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ঢাকা অভিযানের অনুমতি দেন। যুদ্ধ শুরু হলে চীন হস্তক্ষেপ করতে পারে--এই চিন্তা নিয়ে জেনারেল মানেকশ ১৬৭ এবং ৫ মাউন্টেন ব্রিগেডকে চীন সীমান্তে রাখার নির্দেশ দেন।
জেনারেল মানেকশাহের সুকৌশল ও তীক্ষ্ম মেধায় মাত্র ৮ দিনের যুদ্ধে পাকিস্তানের ৯৩ হাজার সৈন্য আত্মসমর্পন করে। ঐ দিন জেনারেল মানেকশের জীবন-ইতিহাসে ছিল গৌরবের দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে " বাংলাদেশ " নামে একটি স্বাধীন দেশের জন্ম লাভ করে। ভারত সরকার জেনারেল মানিকশকে সর্বোচ্চ সামরিক পদবী "ফিল্ড মার্শাল" উপাধি দেন। মানেকশের পূর্বে ভারতে ফিল্ড মার্শাল উপাধি পান কোদানদেরা মদপ্পা কারিয়াপ্পা।
১৯১৪ সালের ৩ এপ্রিল ভারতের পাঞ্জাবে অমৃতসরে ফিল্ড মার্শাল মানিকশ জন্ম গ্রহণ করেন।
১৯৩৪ সালে বৃটিশ ভারতের সেনাবাহিনীতে কমিশন অফিসার পদে যোগ দেন।
চল্লিশ বছর সামরিক পেশা জীবনে পাঁচটি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।
১। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ২। ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ। ৩। ১৯৬২ সালে চীন ভারত যুদ্ধ। ৪।, ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ। ৫। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ।
জেনারেল মানিকশ ১৯৬৯ সাল হতে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন।
পদ্ম বিভুষণ, পদ্মভুষণ, মিলিটারী ক্রস বিরল সম্মানের অধিকারী হন।
২০০৮ সালের ২৭ জুন ৯৪ বছর বয়সে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ফিল্ড মার্শাল মানেকশ মৃত্যুবরণ করেন। ভারতের তামিলনাড়ুর অটি এলাকার সমাধি দেয়া হয়।
২০১২ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতা যুদ্ধের অবদানের জন্য ফিল্ড মার্শাল মানেকশকে মরণোত্তর " সম্মাননা" দিয়েছেন।
(মুক্তিযুদ্ধের গবেষক উৎপল কান্তি ধর'র টাইমলাইন থেকে)









