মিশরে বিজয় দিবস পালিত

আফছার হোসাইন, কায়রো থেকে
মিশরে বিজয় দিবস পালিত। ছবি: সাতকাহন

মিশরের রাজধানী কায়রোর বাংলাদেশ দুতাবাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কোরআন তিলাওয়াত, নীরবতা পালন, দোয়া, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে ৪৯তম  মহান বিজয় দিবস।

১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচী শুরু করা হয়। দূতাবাসের সকল সদস্যের উপস্থিতিতে দূতাবাস প্রাঙ্গনে চার্জ দ্যা এ্যাফেয়ার্স এটিএম আব্দুর রউফ মন্ডল জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টায় দূতাবাস মিলনায়তনে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভার সূচনা করা হয়। 

মোহাম্মদ ফেরদৌস'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা থেকে প্রেরিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীসমূহ উপস্থিত অতিথিদের পাঠ করে শোনান, বাংলাদেশ দুতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদুত এটিএম আব্দুর রউফ মন্ডল ও শ্রম সচিব জুবাইদা মান্নান।

বিজয় দিবসের এ অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়সহ মিশরে অধ্যায়নরত বাংলাদেশী ছাত্র, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক এবং কায়রোর বাইর থেকে আসা বিপুল পরিমান প্রবাসী বাংলাদেশীরা অংশগ্রহণ করেন। 

উপস্থিত অতিথিদের মধ্য থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছাত্র, ব্যবসায়ী ও পোষাকশিল্পে কর্মরত পেশাজীবীদের প্রতিনিধিরা আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন। বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী  বীর মুক্তিযুদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন পূর্বক  স্মৃতিচারণ করেন।           

সভাপতির সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এটিএম আব্দুর রউফ মন্ডলও স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিনি মিশরে অবস্থানরত  প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। 

তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার “ভিশন-২০২১”, “ভিশন-২০৪১” এবং “ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০” গ্রহণ করেছে এবং বাংলাদেশ দৃঢ়  প্রত্যয়ে  অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বলেন যে ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে যা বাঙালি  জাতির ইতিহাসে অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। 

কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান দুটো যথাযোগ্য মর্যাদায় আয়োজন করবে এবং মিশর প্রবাসী বাংলাদেশীদের উক্ত কর্মসূচীগুলোতে স্বতঃস্ফুর্ত অংশ গ্রহণের আহ্বান জানানো হবে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান। 

আলোচনা সভাশেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে  কবিতা আবৃত্তি, দেশের গান ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

এ সময় মিশরে প্রবাসী বাংলাদেশী শিশুরা হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে নেচে গেয়ে অনুষ্ঠান উদযাপন করে।

কর্মসূচি শেষে বাঙলাদেশী খাবার দিয়ে নৈশভোজে আপ্যায়িত করা হয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের।