
কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটায় দূতাবাসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচীর সূচনা হয়।
প্রথমেই অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারের বেদিতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন দূতাবাসের চার্জ দ্যা এ্যাফেয়ার্স এটিএম আব্দুর রউফ মন্ডল সহ প্রবাসী বাংলাদেশী ও দূতাবাস কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।
সকাল সোয়া দশটার দিকে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু হয়। এরপর মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত বাণী সমূহ পাঠ করে শোনানো হয়।
রাজধানী কায়রো ছাড়াও বিভিন্ন শহরের প্রবাসী বাংলাদেশী ডাক্তার, স্থানীয় সাংবাদিক, আল আজহার ও কায়রো বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার ওন বয়সের নারী-পুরুষ এবং শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দুতাবাস প্রাঙ্গণ যেনো পরিণত হয়েছিল এক খণ্ড বাংলাদেশে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এটিএম আব্দুর রউফ মন্ডল মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য্যের ওপর বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই ভাষা শহীদ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি তাঁর বক্তৃতায় একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে একটি মর্যাদাশীল দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে গড়ার কাজে প্রত্যেককে তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বাত্মক আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন যে, ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে যা বাঙালি জাতির ইতিহাসে অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান দু'টি যথাযোগ্য মর্যাদায় আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং মিশর প্রবাসী বাংলাদেশীগণকে কর্মসূচি গুলোতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ভাষা শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অতঃপর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে কায়রোর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশী অধ্যাপক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশায় নিয়জিত পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে দুপুরের খাবারের মাধ্যমে আপ্যায়িত হয় সকলে।









