কিশোরগঞ্জের সেই বিপুল সমালোচিত কথিত পীরকে কারাগারে পাঠালেন আদালত

সাতকাহন ডেস্ক
ফাইল ছবি

ওমরাহ হজ্ব নিয়ে কটূক্তি এবং ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যাসহ জঘন্য বক্তব্য ওয়েব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের  দায়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ভৈরবের গুলে মদিনা দরবার শরীফের পরিচালক কথিত পীর আবুল বাশারকে কারাগারে পাঠালেন কিশোরগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত।

গত ১২ জানুয়ারি ভৈরব থানায় মামলা দায়েরের পর কথিত পীর  হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন।

হাইকোর্টের জামিন শেষে আজ রোববার কিশোরগঞ্জের চিফজুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ বিচারক মোঃ হাবিব উল্লাহ তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।        

জানা গেছে, কথিত পীর আবুল বাশার পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলার একটি ওয়াজ মাহফিলে "ওমরাহ হজ্ব নিয়ে জঘন্য ভাষায় কটুক্তি করে বলেন, তার গুল মদিনা দরবার শরীফে আল্লাহর রাসুল  বর্তমান, তার দরবার গেটে কদম রাখলেই পূর্বের  সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়, তিনি আল্লাহর ও রাসুলের সঙ্গে কথা বলেন,যখন যা দরকার, তা নিয়ত করলেই হয়ে যায়"।

ওই ওয়াজমাহফিলে দেয়া ওমরাহ হজ্ব, নবী রাসুল ও আল্লাহকে নিয়ে এ রকম অসংখ্য বিকৃত ও জঘন্য বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ও অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়ে ভাইরাল হলে ধর্মপ্রাণ লোকজনের চোখে পড়ে।

এদেরমধ্যে ভৈরবপুর উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত এ এফ এফ আবদুল্লাহ অ্যাডভোকেটের ছেলে কিশোরগঞ্জ জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম সংক্ষুব্ধ হয়ে ১২ জানুয়ারি ভৈরব থানায় একটি মামলা রুজু করেন। 

২০১৮ সালের ডিজিটাল  নিরাপত্তা আইনের ২৮/৩১ ধারায় রুজুকৃত এ মামলায় কথিত পীর আবুল বাশারকে একমাত্র আসামি করা হয়।

অপরদিকে, সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইনে এ ঘটনা ভাইরাল হয়ে ওঠলে ভৈরব ও কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণ ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

তারা ওই কথিত পীরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশসহ লাগাতার কর্মসূচি পালন করতে থাকে।

এ পরিস্থিতিতে কথিত পীর আবুল বাশার গ্রেফতার এড়াতে  এলাকা ত্যাগ করে হাইকোর্টে গিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্ত হন। আজ রোববার মেয়াদ শেষে কিশোরগঞ্জের  নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ  আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এ মামলায় আসামি পক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌস এবং বাদী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন।